Friday, February 22, 2019

সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা

কয়্যারের আয়োজনটি সম্পর্কে বলুন।

এই গান আমাদের বাঙালির ইতিহাসের একটা বড় অংশ। গানটি নিয়ে কাজ করা সম্মানের ব্যাপার। এটা একটা বিশাল দায়িত্বও। আমরা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছি। গান করার পুরো সময়টাতেই অনেক ভয়ে ছিলাম, রোমাঞ্চিত ছিলাম। কিন্তু সবাই এত আস্থা রেখেছেন যে তাঁদের সহযোগিতার কারণেই গানটি কয়্যারে (সাধারণ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দলগত গান) করতে পেরেছি।গানটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কোনো চাপ বোধ করেছেন?
তা তো অবশ্যই। গানটি সঠিকভাবে তুলে আনার এক বিশাল দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। এখনকার প্রযোজনায় ভিডিও একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তো সে ক্ষেত্রে কয়্যারে আরও সচেতন থাকতে হয়। সবার গাওয়া, শুদ্ধ উচ্চারণ—সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। কণ্ঠ ধারণের স্বচ্ছতার ব্যাপারটিও আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেটি আমি করতে পেরেছি। কারণ, প্রযোজনা দল আমাকে সাহায্য করেছে। শিক্ষার্থীরাও খুব সাহায্য করেছে।

এটা তো কয়েকটি ভাষায় গাওয়া হয়েছে...

ওরা ওদের নিজেদের ভাষায় গানটি শিখেছে। আমি যাওয়ার পর বাংলাটা আমরা শিখিয়েছিলাম। আমরা গায়কিটা খুবই প্রাণবন্ত রাখতে চেয়েছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে এমনটা করা একটু কঠিনই ছিল।

তবে শাওন মাহমুদ (আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানের সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা) যখন আমাদের মহড়ায় আসেন, তিনি একটা ছোট বক্তব্য দিয়েছিলেন তাঁর বাবা ও গানের ইতিহাসটা নিয়ে। তখন শিক্ষার্থীরা সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে যান এবং গানটার যে আবেগ, সেটা পাওয়া যায়। এরপর যখন কণ্ঠ ধারণ ও ভিডিও করা হলো, অসাধারণ হয়ে উঠল পুরো ব্যাপারটা! শিক্ষার্থীদের চেহারায় যে একটা গর্ব ফুটে উঠল, এটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা!

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গান করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমি মূলত প্রকল্পটি সম্পন্ন করার কাজটি করেছি। এর আগে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন ওদেরকে গানটি অনুবাদ করে বিভিন্ন ভাষায় শিখিয়েছেন। তাঁরা দু–তিন দিন আগে থেকেই গানটি নিয়ে কাজ করছিলেন। গাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের অভিব্যক্তি এত সুন্দর ছিল। খুবই আপন একটা অনুভূতি...

No comments:

Post a Comment