Monday, February 25, 2019

Lorem Ipsum is simply dummy

nature-picture text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled

make a type specimen book

. It has survived not only five centuries, but also the leap into electronic typesetting, remaining essentially unchanged. It was popularised in the 1960s with the release of Letraset sheets containing Lorem Ipsum passages, and more recently with desktop publishing software like Aldus PageMaker including versions of Lorem Ipsum. Why do we use it? It is a long established fact that a reader will be distracted by the readable content of a page when looking at its layout. The point of using Lorem Ipsum is that it has a more-or-less normal distribution of letters, as opposed to using 'Content here, content here', making it look like readable English. Many desktop publishing packages and web page editors now use Lorem Ipsum as their default model text, and a search for 'lorem ipsum' will uncover many web sites still in their infancy. Various versions have evolved over the years, sometimes by accident, sometimes on purpose (injected humour and the like).
Where does it come from?



, Lorem Ipsum is not simply random text. It has roots in a piece of classical Latin literature from 45 BC, making it over 2000 years old. Richard McClintock, a Latin professor at Hampden-Sydney College in Virginia, looked up one of the more obscure Latin words, consectetur, from a Lorem Ipsum passage, and going through the cites of the word in classical literature, discovered the undoubtable source. Lorem Ipsum comes from sections 1.10.32 and 1.10.33 of "de Finibus Bonorum et Malorum" (The Extremes of Good and Evil) by Cicero, written in 45 BC. This book is a treatise on the theory of ethics, very popular during the Renaissance. The first line of Lorem Ipsum, "Lorem ipsum dolor sit amet..", comes from a line in section 1.10.32. The standard chunk of Lorem Ipsum used since the 1500s is reproduced below for those interested. Sections 1.10.32 and 1.10.33 from "de Finibus Bonorum et Malorum" by Cicero are also reproduced in their exact original

Contrary to popular belief

Contrary to popular belief </h2>
form, accompanied by English versions from the 1914 translation by H. Rackham. Where can I get some? There are many variations of passages of Lorem Ipsum available, but the majority have suffered alteration in some form, by injected humour, or randomised words which don't look even slightly believable. If you are going to use a passage of Lorem Ipsum, you need to be sure there isn't anything embarrassing hidden in the middle of text. All the Lorem Ipsum generators on the Internet tend to repeat predefined chunks as necessary, making this the first true generator on the Internet. It uses a dictionary of over 200 Latin words, combined with a handful of model sentence structures, to generate Lorem Ipsum which looks reasonable. The generated Lorem Ipsum is therefore always free from repetition, injected humour, or non-characteristic words etc

Friday, February 22, 2019

মাকে খুঁজে পেতে ডিএনএ নমুনা দিল শিশু সানিন


ডিএনএ নমুনা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে শিশু সানিন। ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
ডিএনএ নমুনা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে শিশু সানিন। ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
মামার কোলে চড়ে মায়ের খোঁজে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে ছোট্ট সানিন। পাঁচ বছরের শিশুটি ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না, কী হয়েছে! সবাই বলছে, তার মা আর নেই। কিন্তু সে জানে—মা তো একটু বাড়ির নিচে গিয়েছিল। তারপর কোথায় গেল? সানিনের পাঁচ মাস বয়সী ছোট্ট বোনটাও সারাক্ষণ কাঁদছে। অবুঝ শিশুটিও হয়তো তার মাকে খুঁজছে।
রাজধানীর চকবাজারে গত বুধবার রাতে আগুনের
ঘটনায় সানিনের মা বিবি হালিমা বেগম শিলা নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ শুক্রবার মামার সঙ্গে সানিন এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শিলার লাশ খুঁজে পেতে মেয়ে সানিনের ডিএনএ নমুনা নিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
চকবাজারে আগুনের ঘটনায় ডিএনএ নমুনা দিতে হাসপাতালে আসা স্বজনদের কাছ থেকে জানা যাচ্ছে টুকরো টুকরো সব কষ্টের গল্প।
শিলার গল্প জানা গেল তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের স্থান থেকে ২০০ গজ

দূরেই পরিবার নিয়ে থাকতেন শিলা। শিলার স্বামী মোহাম্মদ সুমন। তিনি চকবাজারেই ব্যাগের ব্যবসা করেন। বুধবার রাতের আগুন তাঁদের বাসা পর্যন্ত যায়নি। তবে ‘ভাগ্য’ শিলাকেই আগুনের কাছে নিয়ে গেছে।
<h1> শিলার বোনের স্বামী</h1>
 মো. বেলাল হোসেন জানালেন, ঘটনার দিন রাতে সানিন একটু অসুস্থ ছিল। তার বাবা সুমন ছিলেন কর্মস্থলে। তাই শিলা তাঁর এক বোন ও দুই শিশুসন্তানকে বাসায় রেখে নিচে গিয়েছিলেন ওষুধ কিনতে। তিনি সেই যে গেছেন, আর ফেরেননি।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, নিচে ওষুধ কিনতে গিয়ে শিলা হয়তো ভয়াবহ আগুনের কবলে পড়েন। হয়তো তিনি আর নেই। শনাক্ত না হওয়া লাশের ভেতরে শিলা থাকতে পারেন—এমনটা ভেবে ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন তাঁরা।
বেলাল হোসেন জানান, শিলারা পাঁচ বোন ও তিন ভাই। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তাঁদের গ্রামের বাড়ি।

চকবাজারে আগুনে প্রাণহানিতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের শোক

রাজধানীর চকবাজারে আগুনে বহু লোকের প্রাণহানিতে আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো এক বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সমবেদনা জানান।
বার্তায় পুতিন বলেন, ‘ঢাকায় আগুনে বহু লোকের প্রাণহানির ঘটনায় আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
চকবাজারের চুড়িহাট্টায় বুধবার রাতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয় ৬৭ প্রাণ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুনে অনেক দগ্ধ হয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসাধীন আছেন। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে যে নয়জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সরু গলিতে হিমশিম খেয়েছে ফায়ার সার্ভিস

আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছিল। ছড়িয়ে পড়ছিল আশপাশের ভবনে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছুটে গিয়েছিল ফায়ার সার্ভিসের বেশ কিছু গাড়ি। কিন্তু ঘটনাস্থলের কিছু দূরে থেমে যেতে হয় সেগুলোকে। কারণ, সরু গলি দিয়ে গাড়িগুলোর আর এগুনোর সুযোগ ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের নিরুপায় কর্মীরা লম্বা পাইপ দিয়ে পানি টেনে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানালেন, সড়কগুলো সরু হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁদের বেশি সময় লেগেছে। এ ছাড়া সরু সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ডিশের তারও অগ্নিনির্বাপণ কাজে বিঘ্ন ঘটায়।
রাজধানীর অন্য এলাকা থেকে চুড়িহাট্টা মোড়ে যাওয়ার প্রধান পথ উর্দু রোড ও ওয়াটার ওয়ার্কস রোড। এই দুটি রোড থেকে পৃথক চারটি গলি পৌঁছেছে চুড়িহাট্টা মোড়ে। এই গলিগুলো মাত্র ৮ থেকে ১০ ফুট চওড়া। এই পথে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ঢুকলে বিপরীত পাশ থেকে একটি রিকশারও ঠিকমতো যাওয়ার উপায় নেই।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, এমন পরিস্থিতির কারণে চুড়িহাট্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক বেশি সময় লেগেছে।
গত বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দেখা যায়, উর্দু রোডে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি গাড়ি। এর মধ্যে দুটি গাড়িতে পাইপ লাগিয়ে চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পানি ছিটাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কিন্তু ভবনগুলোর ভেতরে যেখানে আগুন জ্বলছে, সেখানে ঠিকমতো পানি পৌঁছানো যাচ্ছে না। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের মইও ছিল না। পাশের যে ভবন থেকে পানি ছিটানো যেত, সে ভবনেও একপর্যায়ে আগুন ধরে যায়।
আড়াইটার দিকে উর্দু রোডে ফায়ার সার্ভিসের বেশির ভাগ গাড়ির পানি মজুত শেষ হয়ে যায়। তখন পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পুকুরে পানির পাম্প বসানো হয়। সেখান থেকে পাইপে নন্দ কুমার দত্ত রোড দিয়ে চুড়িহাট্টায় পানি পৌঁছানো হয়। ওই পুকুর থেকে চুড়িহাট্টার দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার।
উর্দু রোড হয়ে ওয়াটার ওয়ার্কস রোডে যায় ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি। এই রোড থেকে ওয়াহেদ ম্যানশন বা চুড়িহাট্টা মোড়ের দূরত্ব ৫০ থেকে ৬০ মিটার। এই গাড়িগুলোতে পাইপ লাগিয়ে পানি ছিটানো হয়। রাত তিনটার দিকে এই গাড়িগুলোর পানিও ক্রমান্বয়ে শেষ হয়ে যায়। পরে আজগর লেন, উর্দু রোড, ডালপট্টি লেন, ওয়াটার ওয়ার্কস রোড ও রহমতগঞ্জের বিভিন্ন বহুতল ভবনের ট্যাংক থেকে পানি সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে চকবাজার শাহি মসজিদে পানির মজুত ছিল বেশি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মিরাজুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন বলেন, গাড়ি নিয়ে আগুনের কাছাকাছি যাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ছিল।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অনেক বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, আধুনিক যুগে আগুন নিয়ন্ত্রণে পানির ওপর নির্ভরশীল ফায়ার সার্ভিস। সরু গলির অজুহাতে তারা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশে আগুন নেভাতে অনেক আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে। কিন্তু ওই এলাকার রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত পানিও পাওয়া যায়নি। তা করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।

এক ঝলক (২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পালিত হবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সে উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার সড়কে আঁকা হচ্ছে আলপনা। ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি।
 ছবি: আবদুস সালাম

সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা

কয়্যারের আয়োজনটি সম্পর্কে বলুন।

এই গান আমাদের বাঙালির ইতিহাসের একটা বড় অংশ। গানটি নিয়ে কাজ করা সম্মানের ব্যাপার। এটা একটা বিশাল দায়িত্বও। আমরা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছি। গান করার পুরো সময়টাতেই অনেক ভয়ে ছিলাম, রোমাঞ্চিত ছিলাম। কিন্তু সবাই এত আস্থা রেখেছেন যে তাঁদের সহযোগিতার কারণেই গানটি কয়্যারে (সাধারণ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দলগত গান) করতে পেরেছি।গানটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কোনো চাপ বোধ করেছেন?
তা তো অবশ্যই। গানটি সঠিকভাবে তুলে আনার এক বিশাল দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। এখনকার প্রযোজনায় ভিডিও একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তো সে ক্ষেত্রে কয়্যারে আরও সচেতন থাকতে হয়। সবার গাওয়া, শুদ্ধ উচ্চারণ—সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। কণ্ঠ ধারণের স্বচ্ছতার ব্যাপারটিও আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেটি আমি করতে পেরেছি। কারণ, প্রযোজনা দল আমাকে সাহায্য করেছে। শিক্ষার্থীরাও খুব সাহায্য করেছে।

এটা তো কয়েকটি ভাষায় গাওয়া হয়েছে...

ওরা ওদের নিজেদের ভাষায় গানটি শিখেছে। আমি যাওয়ার পর বাংলাটা আমরা শিখিয়েছিলাম। আমরা গায়কিটা খুবই প্রাণবন্ত রাখতে চেয়েছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে এমনটা করা একটু কঠিনই ছিল।

তবে শাওন মাহমুদ (আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানের সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা) যখন আমাদের মহড়ায় আসেন, তিনি একটা ছোট বক্তব্য দিয়েছিলেন তাঁর বাবা ও গানের ইতিহাসটা নিয়ে। তখন শিক্ষার্থীরা সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে যান এবং গানটার যে আবেগ, সেটা পাওয়া যায়। এরপর যখন কণ্ঠ ধারণ ও ভিডিও করা হলো, অসাধারণ হয়ে উঠল পুরো ব্যাপারটা! শিক্ষার্থীদের চেহারায় যে একটা গর্ব ফুটে উঠল, এটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা!

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গান করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমি মূলত প্রকল্পটি সম্পন্ন করার কাজটি করেছি। এর আগে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন ওদেরকে গানটি অনুবাদ করে বিভিন্ন ভাষায় শিখিয়েছেন। তাঁরা দু–তিন দিন আগে থেকেই গানটি নিয়ে কাজ করছিলেন। গাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের অভিব্যক্তি এত সুন্দর ছিল। খুবই আপন একটা অনুভূতি...

তামিমের নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না

ডানেনিন থেকে ক্রাইস্টচার্চ বিমানবন্দরে নেমে হাঁটতে হাঁটতে তামিম ইকবাল বললেন, ‘জানেন, আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।’
কী বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস হচ্ছে না যে, ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচে তিনি করেছেন ৫, ৫ ও ০। সব মিলিয়ে ১০ রান।
প্রথম দু্ই ম্যাচেই ৫ রানে আউট হওয়ার পর তৃতীয় ম্যাচের আগে শুভকামনা জানানোয় বলছিলেন, ‘আগে ৫ রান পার হই।’
‘৫’ নিয়ে তাঁর অস্বস্তি থাকারই কথা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৪ বার ৫ রানে আউট হয়েছেন। ওয়ানডেতে এর চেয়ে বেশিবার আউট হয়েছেন শুধু একটা স্কোরেই। তৃতীয় ম্যাচে যেটির সংখ্যা আরও এক বেড়ে গিয়ে এখন তা ১৭। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর। সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট হওয়ার ‘রেকর্ড’টাও তামিমের হওয়াটা এখন অবশ্যম্ভাবীই মনে হচ্ছে। আর একবার শূন্য রানে আউট হলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন শীর্ষে থাকা হাবিবুলকে।
এতবার যেখানে শূন্য রানে আউট হয়েছেন, এটা নিয়ে অবিশ্বাসের অনুভূতি হওয়ার কথা নয়। ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচেই ব্যর্থ হওয়াটাই আসলে বিশ্বাস হচ্ছে না তামিমের। এমন অভিজ্ঞতা যে অনেক দিন হয়নি তাঁর। সর্বশেষ কবে এমন একটা সিরিজ খেলেছিলেন, মনে আছে? তামিমের সংখ্যা-পরিসংখ্যান-রেকর্ড এসব খুব মনে থাকে। উত্তরটা দিতে তাই এক মুহূর্তও ভাবতে হলো না তাঁকে, ‘সর্বশেষ পুরো সিরিজেই খারাপ করেছিলাম মনে হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে। তবে সেটি তো অনেক দিন আগের কথা।’
আসলেই অনেক দিন আগের কথা। ২০১১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচে তামিম করেছিলেন মোট ৪ রান—০, ৪, ০। এরপর প্রায় আট বছর কেটে গেছে। এমন দুঃস্বপ্নের মতো সিরিজ আর আসেনি তামিমের ক্যারিয়ারে। ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই সিরিজটার পর একটাও ফিফটি করিনি, এমন ওয়ানডে সিরিজ সর্বশেষ কবে খেলেছি, মনেই করতে পারছি না’—অস্ফুটে এই কথা বলে স্মৃতির সাগরে ডুব দিলেন তামিম।
আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন, তারপরও তৃতীয় ম্যাচে কী ভেবে দ্বিতীয় বলেই উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গেলেন টিম সাউদিকে? ব্যাখ্যা একটা আছে, আবার নাই-ও। একটা ক্রিকেটীয় বিবেচনা তো ছিলই, তবে সেটি ভুল ছিল বলে স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই তামিমের, ‘সাউদির বল আমার জন্য ইনসুইং হবে, এটা আমি জানতাম। ও এটাই করে। আমি তাই ভেবেছিলাম, বেরিয়ে গিয়ে যদি একটা মেরে দিই, আমিও একটু ফ্রি হয়ে যাব, সাউদিও একটু এলোমেলো হয়ে যাবে। চিন্তাটা ঠিক ছিল না। প্রথম ওভারেই এটি না করে তৃতীয় ওভারে করলেই পারতাম।’
ডানেডিনে তৃতীয় ওয়ানডের পর তামিম ইকবালকে কিছু একটা বোঝাচ্ছিলেন বিসিবি পরিচালক আকরাম খান। ছবি: উৎপল শুভ্র
ডানেডিনে তৃতীয় ওয়ানডের পর তামিম ইকবালকে কিছু একটা বোঝাচ্ছিলেন বিসিবি পরিচালক আকরাম খান। ছবি: উৎপল শুভ্র
আগের তামিম হলে ভুল স্বীকারের বদলে এটির পক্ষে যুক্তি দিতেন। সেই যুক্তির অভাবও ছিল না। উইকেট থেকে বেরিয়ে এভাবে বোলারদের উড়িয়ে দিয়ে তো আর কম রান করেননি। ক্রিকেট বিশ্ব তাঁকে প্রথম চিনেছিলই এভাবে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে উইকেট থেকে বেরিয়ে গিয়ে মুনাফ প্যাটেল আর জহির খানকে উড়িয়ে মারার সেই দৃশ্য গুলি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অমর ছবি হয়ে আছে। তবে সেই তামিম তো বদলে গেছেন অনেক দিন। ব্যাটিংয়ের ধরনই তো শুধু বদলায়নি, বড় বদল মানসিকতায়। ‘অজুহাত’ খোঁজার বদলে ব্যর্থতার দায় নিতে শিখেছেন। যে কারণে অবলীলায় নিজেকে দাঁড় করাতে পারছেন কাঠগড়ায়, ‘ওই ম্যাচের আগের দিনই সংবাদ সম্মেলনে আমি কী বললাম আর ব্যাটিংয়ে নেমে কী করলাম! একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, প্রথম ১০ ওভারের আগে-পরে ওদের বোলারদের মধ্যে আগে পরে আকাশ-পাতাল তফাৎ। এই যে সাউদি ৬ উইকেট নিল, ও কিন্তু ১০ ওভারের কম বোলিং করেও ৬৫ রান দিয়েছে। কিন্তু প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই নিয়ে নিয়েছে ৪ উইকেট।’
বদলে যাওয়া তামিম বা পরিণত তামিম—যেটাই বলুন না কেন, সেটির পরিচয় মিলবে এই কথায়, ‘গত চার বছর আমি এমন কিছু করিনি। সর্বশেষ কবে এমন করেছিলাম, সেটিও মনে আছে। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে রাবাদাকে ডাউন দ্য উইকেট মারতে গিয়েছিলাম। প্রথমবার বেঁচে গিয়েছিলাম। পরেরবার আউট! গত চার বছর আর এমন কিছু করিনি।’
এই ওয়ানডে সিরিজের আগে সর্বশেষ ৭টি ইনিংসে তাঁর ২টি সেঞ্চুরি আর ৩টি হাফ সেঞ্চুরি। তিন ইনিংসে মাত্র ১০ রান তামিমের তাই বিশ্বাস না হওয়ারই কথা। ওয়ানডের ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি তাকাচ্ছেন সামনের দিকে। যেখানে এক অর্থে তাঁর নতুন শুরু। গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাতের আঙুল ভেঙে যাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চারটি টেস্ট ম্যাচ মিস করেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের চ্যালেঞ্জটা তাই একটু বড় হয়েই যাচ্ছে। ভুল স্বীকার করে নিজেকেই যখন কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে শিখেছেন, বাজি ধরতেই পারেন, তামিম ইকবাল এই টেস্ট সিরিজে স্বরূপে দেখা দেবেন!